আজকের তারিখ:এপ্রিল ২১, ২০২৬

ঈদুল আজহার দিনে কুরবানী করতে না পারলে কি করবেন?

টুডে বাংলাদেশঃ ১০/০৭/২০২২-ইসলাম, জীবনের কাছাকাছি একটি ধর্ম, সমস্ত আইনের প্রকৃতি, পদ্ধতি এবং উদ্দেশ্য বিশদভাবে বর্ণনা করেছে।

তাই কুরআন ও হাদীসের বর্ণনায় কুরবানীর সকল বিধান আমরা পাই। পাঠকদের অবগতির জন্য আসন্ন কুরবানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান উল্লেখ করা হলঃ

ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী কোরবানির সময়কাল তিন দিন। যারা কোনো কারণে প্রথম দিনে কুরবানী করতে পারেননি, তাদের জন্য ঈদের পরের দুই দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে কুরবানী করার সুযোগ রয়েছে।

তাই শুধু একদিন নয়, ১০ জিলহজ ঈদুল আজহার দিনসহ আরও ২ দিন কোরবানি করা যাবে। জিলহজের ১০ তারিখ থেকে ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজের সূর্যাস্তের পূর্বে পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। তবে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পর কুরবানী বৈধ হবেনা।

যাদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ফরয তাদের জন্য ঈদুল আজহার নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। তবে বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে প্রথম দিনে ঈদের নামায না পড়লে ঈদের নামায অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ দিন কুরবানী করা জায়েয।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের আগে কোরবানির পশু জবাই করবে, তা তার নিজের জন্য প্রকাশ্য জবাই হবে। আর যে ব্যক্তি সালাত ও খুতবার পর যবেহ করবে, তার কুরবানী পূর্ণ হবে এবং সে মুসলমানদের রীতি অনুসরণ করেছে।’

জিলহজের ১০ ও ১১ তারিখ রাতে কুরবানী করাও জায়েয। তবে দিনের বেলায় কুরবানী করা উত্তম।

যদি কেউ কুরবানীর দিনগুলোতে ফরয কুরবানী দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে কুরবানীর জন্য কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে কুরবানীর উপযোগী ছাগলের মূল্যের সাদকা দেওয়া ওয়াজিব।

আর যদি পশু ক্রয় করা হয়ে থাকে, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী না হয়ে থাকে, তাহলে জীবিত অবস্থায় পশু সদকা করা হবে।

কিন্তু যদি জবেহ করা হয় (সময়ের পর) তাহলে পুরো গোশত সদকা করতে হবে। এমতাবস্থায় জীবিত পশুর তুলনায় গোশতের মূল্য কমে গেলে মূল্য হ্রাসের পরিমাণও সদকা করতে হবে।

সূত্রঃ সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, ইলাউস সুনান-খণ্ড ১৭, রদ্দুল মুহতার-৪ খণ্ড।

Share